1. admin@bd-journalist.com : বিডি জার্নালিস্ট : বিডি জার্নালিস্ট
  2. miraj20@gmail.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. commercial.rased@gmail.com : Staff Reporter : Staff Reporter
  4. Bangladeshkonthosor@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : অনলাইন ডেক্স
  5. newuser@mail.com : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ০৯ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
পালিয়ে যায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নোয়াখালীতে চিকিৎসা না দেওয়ায় রোগির মৃত্যুর অভিযোগ ভ্রমন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো ওমান রামপালের খাঁনজাহান আলী বিমান বন্দরের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন র্দীঘ ৫০ বছরের সফলতার গল্প শোনালেন রুহুল আমিন গাজীপুরের টঙ্গীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই জন ডাকাত গ্রেফতার শেষ হলো পদ্মা সেতুর রোডওয়ে স্লাব বসানোর কাজ বরিশালের ইউএনও ওসি সহ ১১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা,খতিয়ে দেখবে পিবিআই ফজলুল হক বাবুর জন্মদিনে জানালো ১৫ বছর আগের কঠিন সিদ্ধান্তের কথা টঙ্গীতে শোক দিবস উপলক্ষে আলােচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চার দিন পরে মধুমতি নদীতে নিখোঁজ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার

ঝালকাঠির ছৈলারচরে গাছে গাছে মৌমাছির বাসা, আসছে অতিথি পাখিও

বিডি জার্নালিস্ট ডেস্ক :
  • আপডেট সময় শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিষখালী নদীতে এক যুগেরও আগে ৭০ একর জমি নিয়ে জেগে উঠেছে এক বিশাল চর। যেখানে রয়েছে লক্ষাধিক ছৈলা গাছ। তাই চরের নামকরণ করা হয় ‘ছৈলার চর’।
ছৈলা ছাড়াও এখানে রয়েছে কেয়া, হোগল, রানা, এলি, মাদার, আরগুজিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। এসব ডালে ডালে ভিড় করে থাকবে শালিক, ডাহুক আর বকের ঝাঁক। এছাড়াও রয়েছে মৌমাছির বাসা ও মৌচাক। তাই এ চরে এলে খুব কাছ থেকে শোনা যায় পাখির কিচিরমিচির ডাক ও মৌমাছির গুনগুনানি। পাখিদের অভয়ারণ্য হওয়ায় এ অতিথি পাখির উপস্থিতিরও কমতে নেই।

কাঠালিয়া লঞ্চঘাট থেকে নৌপথে যেতে হয় ছৈলার চরে। পর্যটন স্পট হিসেবে ২০১৫ সালে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন ছৈলারচর স্থানটি চি‎হ্নিত করলেও তকা বাস্তবায়ন হয়নি ৬ বছরেও।

এই চরে সমস্যার শেষ নেই। সড়ক পথে যাতায়াতে নেই কোনো ব্যবস্থা। সিঁড়ি না থাকায় নৌ পথের পর্যটকদের ছৈলার চরে যেতে হচ্ছে হাঁটু সমান পানি ও কাদা ভেঙে। নেই বিশুদ্ধ পানি ও শৌচাগারের। হাঁটার জন্য কোনো রাস্তা নেই। কোনো বিশ্রামাগার না থাকায় অনেক পর্যটক সেখানে যেতে বিমুখ হচ্ছে। পর্যটকদের জন্য কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। পর্যটন এলাকাকে ঘিরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রেস্ট হাউজ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের মতে, ছৈলা একটি লবণ সহিষ্ণু বন্য প্রজাতির বৃক্ষ। উপকূলীয় নদী তীরবর্তী চর, জোয়ার ভাটার প্রবহমান খালের চর ও প্লাবনভূমি জুড়ে কোনো যত্ন ছাড়াই প্রকৃতিগতভাবে জন্ম নেয় এবং বংশ বৃদ্ধি হয় এ বৃক্ষের। ছৈলা গাছের শেকড় মাটির অনেক গভীর অবধি যায় তাই সহসা ঝড় ও জলোচ্ছাসে ভেঙে কিংবা উপড়ে পড়ে না। ফলে উপকূলীয় এলাকায় প্রকৃতিবান্ধব গাছ হিসেবে ছৈলা বনবিভাগের সংরক্ষিত বৃক্ষ। কেবল কাঠের মূল্য বিবেচনায় নয়; মাটির সুদৃঢ় গঠনে পর্যায়ক্রমিক একটি দরকারি বৃক্ষ প্রজাতি হিসেবে ছৈলা গাছকে বিবেচনা করা হয়। তাই দুর্যোগ প্রবণ উপকূলে প্রকৃতিবান্ধব ছৈলা গাছ কাটা নিষেধ।

কাঠালিয়ার উদীয়মান নারী সংগঠক ও কলেজ ছাত্রী সাদিয়া জাহান মনি বলেন, পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়তে হলে নদীর পাড় থেকে একটি ঘাটলা, সড়ক পথে যোগাযোগের জন্য কিল্লার পাড় থেকে একটি সেতু, উন্নত মানের বেশ কিছু টয়লেটের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যকর পানীয় জলের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত গেস্ট হাউজ, নিরাপত্তার জন্য প্রহরীর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসনিকভাবে এটি বাস্তবায়ন হলে অবকাঠামো ও পর্যটন সুবিধা পেলে সরকার এখান থেকে রাজস্ব পাবে।

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বরিশাল বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর এবং কাঠালিয়ার সমাজ কর্মী মো. ফারুক হোসেন খান বলেন, ‘ছৈলার চর’ পর্যটন খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও রয়েছে নানা সংকট। প্রতিকূল যাতায়াত ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এ স্থানে পর্যটকরা চিন্তিত থাকেন। তবু সেই সংকট উপেক্ষা করে

ব্যবসায়ী শামসুল হক মনু জানান, শীত এলেই এসব জলাশয়, নদীর তীরের নিরাপদস্থানসহ বিভিন্ন হাওর, বাঁওড়, বিল ও পুকুরের পাড়ে চোখে পড়ে নানা রং-বেরংয়ের নাম জানা, অজানা পাখির। অথচ বেআইনিভাবে শিকার হচ্ছে এসব পাখি। অতিথি পাখি আমাদের বন্ধু, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের গর্ব, আমাদের প্রেরণা। আবাসিক ও অতিথি পাখি মিলে আমাদের দেশে পাখির প্রায় ৬৫০ প্রজাতির। এর মধ্যে ৩৬০ প্রজাতি আবাসিক। বাকি ৩০০ প্রজাতি অতিথি পাখি। সব অতিথি পাখি শীতের সময় আসে না। ৩০০ প্রজাতির মধ্যে ২৯০টি শীত মৌসুমে আসে ও ১০টি প্রজাতি থেকে যায়। এ পাখিগুলোকে অচেনা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমাদের বন্ধুসুলভ আচরণ করা দরকার। এই পাখিগুলো রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।

ঝালকাঠি সরকারি কলেজের প্রাণি বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোসাম্মাৎ জেবুন্নেছা জানান, প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে পাখির একটা অতুলনীয় মিল রয়েছে। যে কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বেই পাখি তা টের পায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিথি পাখির আগমন পূর্বের চেয়ে অনেকটাই কমে গেছে। এছাড়াও স্থানীয় মানুষদের শৌখিনতা আ পেশাদার শিকারের ফলে অবাধ বিচরণ করতে না পারায় দিনদিন ক্রমান্বয়ে অতিথি পাখির আগম হ্রাস পাচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেলে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে নিরাপদ স্থানের গন্তব্যে ছুটে চলে। অনেক সময় পাখির ঝাক ক্লান্তি বোধ করলে নদীর বাঁকে বা কোন জলাশয়ে বিশ্রাম ও খাবারের খোঁজে নেমে পড়ে। সেখানে নিরাপদ আশ্রয় স্থান মনে করলে পাখি সেখানেই আশ্রয় নেয়।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটন কর্পোরেশনকে ছৈলার চরকে পর্যটন স্পট তালিকাভুক্তির জন্য চিঠি দিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তালিকাভুক্তি হলেই পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা তারাই করবেন। জরুরি ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনকে বলেছি সাধ্যমত ব্যবস্থা করতে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021 bd-journalist.com
Theme Customized By newspadma.Com