1. admin@bd-journalist.com : বিডি জার্নালিস্ট : বিডি জার্নালিস্ট
  2. miraj20@gmail.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. commercial.rased@gmail.com : Staff Reporter : Staff Reporter
  4. Bangladeshkonthosor@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : অনলাইন ডেক্স
  5. newuser@mail.com : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ০৯ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
পালিয়ে যায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নোয়াখালীতে চিকিৎসা না দেওয়ায় রোগির মৃত্যুর অভিযোগ ভ্রমন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো ওমান রামপালের খাঁনজাহান আলী বিমান বন্দরের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন র্দীঘ ৫০ বছরের সফলতার গল্প শোনালেন রুহুল আমিন গাজীপুরের টঙ্গীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই জন ডাকাত গ্রেফতার শেষ হলো পদ্মা সেতুর রোডওয়ে স্লাব বসানোর কাজ বরিশালের ইউএনও ওসি সহ ১১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা,খতিয়ে দেখবে পিবিআই ফজলুল হক বাবুর জন্মদিনে জানালো ১৫ বছর আগের কঠিন সিদ্ধান্তের কথা টঙ্গীতে শোক দিবস উপলক্ষে আলােচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চার দিন পরে মধুমতি নদীতে নিখোঁজ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার

গণহত্যার ৪৯ বছর পেরিয়ে গেলেও অরক্ষিত ঝালকাঠির রাজাপুরের কাঠিপাড়ার গণকবর

বিডি জার্নালিস্ট ডেস্ক :
  • আপডেট সময় রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘন জঙ্গলে ঘেরা ছিল কাঠিপাড়া। সেই সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে এই জঙ্গলে আশ্রয় নিত লোকজন। এক পর্যায়ে বিষয়টি জেনে যায় পাকিস্তানি বাহিনী। আক্রমণ চালিয়ে হত্যা করে জঙ্গলে আশ্রয় নেওয়া নিরীহ লোকদের। পরে সেখানে একটি গর্ত করে লাশগুলো পুঁতে রাখে স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন পর ২০১০ সালের ১৭ মে এই জঙ্গলে মাথার খুলিসহ ১৬ ব্যক্তির হাড়গোড় পাওয়া যায়। এরপর প্রায় ১০ বছর অতিবাহিত হলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি এই ১৬ জনের। কাঠিপাড়া গণকবরটি ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায়। সংরক্ষণের অভাবে গণকবরটিও নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে বলে জানা গেছে।

কাঠিপাড়ায় ১৯৭১ সালের মে মাসের মাঝামাঝি পাকিস্তানি বাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালায়। এ সময় জীবন রক্ষার্থে সাধারণ মানুষ এখানকার জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। ১৭ মে সকালে মানসিক প্রতিবন্ধী এক যুবক দৌড়ে জঙ্গলে পালানোর চেষ্টা করলে পাকিস্তানি বাহিনীর নজরে পড়ে। এ সময় জঙ্গলে আশ্রয় নেওয়া নারী-পুরুষদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের ২৫ জনসহ অর্ধশতাধিক লোককে হত্যা করে চলে যায় পাকিস্তানি বাহিনী।

পরে স্থানীয়রা খালের মতো গর্ত তৈরি করে লাশগুলো চাপা দিয়ে রাখেন। এই লাশগুলো কাঠিপাড়া গ্রামের জীতেন্দ্রনাথ বড়াল, কালীকান্ত মন্ডল, সতীশ চন্দ্র হালদার, অনুকূল বড়াল, ক্ষিতীশ চন্দ্র হালদার, ব্রজেন্দ্রনাথ হালদার, পার্শ্ববর্তী নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের হরিমোহন হালদার, কার্তিক চন্দ্র হালদার, কামিনী কুমার হালদার, ডা. যোগেন্দ্রনাথ মিস্ত্রি, নৈকাঠি গ্রামের ধীরেন্দ্রনাথ মিস্ত্রি, যোগেশ্বর মিস্ত্রি, ললিত চন্দ্র হালদার, সূর্য ঘরামি, মধুসূদন হালদার, সুরেন্দ্রনাথ গায়েনে নাম শনাক্ত করা হয়। ২০১০ সালের ১৭ মে এই ১৬ ব্যক্তির মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার হয়। ২০১১ সালে জেলা পরিষদ থেকে একটি ফটক এবং কাঁটাতার দিয়ে বেড়ার ব্যবস্থা করা হয়।

বর্তমানে কাঁটাতারে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু ইট-সিমেন্টের তৈরি ফটকটি এতিমের মতো দাঁড়িয়ে আছে। পরে একটি সুপারি গাছে ১৬ ব্যক্তির নাম-পরিচয়সহ একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়। তা এখন মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় গরু-ছাগলের খাদ্যের জন্য সেখানে রাখা হচ্ছে। কুকুরের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে জায়গাটি। মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগীদের নাম শনাক্ত হলেও দেওয়া হয়নি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। এখন তাদের স্বীকৃতির অপেক্ষায় দিন গুনছেন স্বজনেরা।

কাঠিপাড়া গ্রামের মুক্তিযুদ্ধকালে নিহত জীতেন্দ্রনাথ বড়ালের ছেলে শান্তিরঞ্জন বড়াল জানান, বিএ পাস করে বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাকে ৫ সদস্যের পরিবারের বোঝা বহন করতে হচ্ছে। এর মধ্যে তার ছোট ভাই সত্যরঞ্জন বড়াল বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। পরিবারের লোকজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তিনি। তিনিসহ সকল শহীদ পরিবারের লোকজন ভাতাসহ একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পান, এজন্য সরকারের কাছে তার আবেদন জানান তিনি।

আত্মদানকারী সতীশ চন্দ্র হালদারের ছেলে স্বপন কুমার হালদার জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় ছোট বয়সেই বাবাকে হারাতে হয়েছে। শুধু একটি সাইনবোর্ডে বাবার নামটি ব্যবহার করা ছাড়া আর কোনো রাষ্ট্রীয় সুবিধা নেই। অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে তাদের। তিনি জানান, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হিসেবে প্রাপ্য সম্মানটুকু পেলে তার বাবার আত্মা শান্তি পেত। তারাও শান্তিতে থাকতে পারতেন।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস আলী মৃধা জানান, ১৯৭১ সালের ১৭ মে সকালে এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের ৫০ জনেরও বেশি লোককে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। পরে একটি ছোট খালের মতো করে কেটে মাটিচাপা দেওয়া হয় তাদের। একাত্তরের স্মৃতি আর শোকগাথা এ বধ্যভূমি কালের গর্ভে হারাতে বসেছে।

রাজাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শাহ আলম নান্নু জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে কাঠিপাড়া বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

ইউএনও মোক্তার হোসেন বলেন, শুক্তাগড় ইউনিয়নের গণকবর থেকে উদ্ধার করা মাথার খুলিসহ হাড়গোড়ের নমুনা সংগ্রহ করে ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। যদি তারা সেখান থেকে স্বীকৃতি পান এবং তারা যদি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হন, তাহলে বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021 bd-journalist.com
Theme Customized By newspadma.Com