1. admin@bd-journalist.com : বিডি জার্নালিস্ট : বিডি জার্নালিস্ট
  2. miraj20@gmail.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. commercial.rased@gmail.com : Staff Reporter : Staff Reporter
  4. newuser@mail.com : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ১১:৩১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
বাগেরহাটে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত পরিবারের মাঝে এক মাসের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ যুক্তরাষ্ট্রকে দেখে নেয়ার হুমকি তালেবানের ডেঙ্গু রোগির নতুন রেকর্ড রাজধানীতে ১৪ দিন কারখানা বন্ধ নিয়ে চিন্তিত চট্টগ্রাম বন্দর ঈদের পরের লকডাউনে গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিল সরকার অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ায় ব্যবসায়ীরা আমদানি বাড়িয়েছেন ভারত থেকে জেনে নিন মহামারিতে কোন বয়সের কতো জনের মৃত্যু হয়েছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে নতুন নিয়মে করোনা টিকা কার্যক্রমে সেবা দিচ্ছে টুঙ্গিপাড়া রোভার স্কাউট স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাগ্নের দুর্নীতি : হাসাপাতালের বাথরুমের ১টি লাইটের দাম ৩ হাজার ৮৪৩ টাকা!

খুব কষ্টে দিন কাটপার লাগছি তিস্তা নদীতে পানিও নাই, মাছও নাই

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট
  • আপডেট সময় শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
[কথাগুলো বলছিলেন জেলে তিস্তার মাঝি মজিদুল ইসলাম]

লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলা তিস্তা, ধরলা, সানিয়াজানসহ মোট ১৩টি নদীবেষ্টিত এলাকার হাজারো জেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে প্রতিবছর তিস্তাসহ কয়েকটি নদী প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে। প্রতিবছর ৩ থেকে ৪ মাস নদীতে পানি না থাকায় এসব জেলে মাছ ধরতে না পেরে পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটান।

তিস্তা নদীত এলা পানিও নাই, মাছও নাই, খুব কষ্টে দিন কাটপার লাগছি (দিন কাটাচ্ছি) ভাই। নদীত পানি যখন বেশি আছলো (ছিল) তখন মাছও বেশি পাছনো আর হামার দিনও ভালে কাটছোলো। তিন/চার মাস হামার এই তিস্তা নদীত পানিকম থাকায় একটা মাছও না পাই। বর্তমানে হামরা ছাওয়া-পোয়া (ছলে-মেয়ে) নিয়া খুব কষ্টে আছি।’ তিস্তা নদীতে মাছ না পাওয়ায় খালি হাতে বাড়ি ফেরার সময় এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন জেলে তিস্তার মাঝি মজিদুল ইসলাম।

তিস্তা ব্যারাজ থেকে শুরু করে তিস্তার বিস্তীর্ণ এলাকা এবং সেচ প্রকল্পের নালায় এই মৌসুমে পানি না থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিস্তা পাড়ের হাজারো জেলে। পরিবার নিয়ে খেয়ে না-খেয়ে মানবেতর দিন পার করছেন তারা। সেই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ৬৩ চরের হাজারো খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলা তিস্তা, ধরলা, সানিয়াজানসহ মোট ১৩টি নদীবেষ্টিত এলাকার হাজারো জেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে প্রতিবছর তিস্তাসহ কয়েকটি নদী প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়ে। প্রতিবছর ৩ থেকে ৪ মাস নদীতে পানি না থাকায় এসব জেলে মাছ ধরতে না পেরে পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটান।

তিন মাস পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা সুদ নিয়ে জীবনযাপন করেন।অনেকে দিনমজুরি, কেউবা জাল সেলাই করে উপার্জনের চেষ্টা করেন।

লালমনিরহাটের তিস্তা ও ধরলা নদীতে পানি সংকটে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী বৈরালি মাছ। ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সুস্বাদু এই মাছটি জেলেদের জালে আর আগের মতো ধরা পড়ে না। যেটুকু পাওয়া যায় বাজারে তা বিক্রি হয় অত্যধিক চড়া মূল্যে। তিস্তাপারের কিছু জেলে সারা দিন দু-এক কেজি করে ছোট-বড় বৈরালি মাছ ধরছেন। সেই বৈরালি মাছ মুহূর্তেই তিস্তা পাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। তিস্তায় ভরপুর পানি থাকলে প্রচুর পরিমাণে এই বৈরালি মাছ পাওয়া যেত।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তা ব্যারাজের উজানের অংশে সামান্য পানি আছে। ব্যারাজের ভাটিতে একেবারে পানি নেই বল্লেই চলে। চারিদিকে শুধু মরুভূমির মতো চর চোখে পড়ে। ব্যারাজসংলগ্ন এলাকায় বেশকিছু জায়গাজুড়ে চলছে মৃদু পানির স্রোত। এতেই মাছ ধরার চেষ্টা করছে জেলেরা। তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় মাছ ধরা নিষেধ থাকলেও কয়েকজন জেলে জীবিকা নির্বাহের জন্য ছোট নৌকা নিয়ে ওই জমে থাকা পানির জায়গায় প্রতিদিন মাছ ধরছেন।

স্থানীয় জেলে কুদ্দুস আলী বলেন, ‘তিস্তা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজারের কম নয়। পানির মৌসুমে মাছ ধরি যে টাকা ইনকাম করি সেই টাকা এলা তিন/চার মাস ধরি বসি বসি খাই। অনেকে তা-ও পায় না।’

দোয়ানী মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি রজব আলী বলেন, বর্তমানে তিস্তা নদীতে পানি না থাকায় পাঁচ শতাধিক জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন। তিস্তায় চার মাস পানি না থাকায় বেশিভাগ জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েন। তাই জেলেদের কথা চিন্তা করে সরকারি সাহায্য প্রদানের দাবি জানান তিনি।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরে এই সময় তিস্তা নদীতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কিউসেক পানি থাকে। সাধারণত নদীতে পানি কম থাকায় মাছের পরিমাণও কম হয়।

লালমনিরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ এস এম রাসেল জানান, জেলার নদীগুলোতে তিন থেকে চার মাস পানি না থাকায় জেলেরা কষ্টে দিন কাটান। তাই জেলেদের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021 bd-journalist.com
Theme Customized By newspadma.Com