1. admin@bd-journalist.com : বিডি জার্নালিস্ট : বিডি জার্নালিস্ট
  2. miraj20@gmail.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. commercial.rased@gmail.com : Staff Reporter : Staff Reporter
  4. newuser@mail.com : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :

১৪ দিন কারখানা বন্ধ নিয়ে চিন্তিত চট্টগ্রাম বন্দর

বার্তা ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১

ঈদুল আজহা পরবর্তী ১৪ দিন শিল্প কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এরফলে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানার উৎপাদিত পণ্য কিভাবে রপ্তানি হবে তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, কারখানা বন্দর থাকলে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি পণ্য ছাড় হবে কিনা, আর ছাড় হলেও সেগুলো কারখানায় রাখা যাবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিদেশ থেকে জাহাজে কাঁচামাল এনে কারখানায় উৎপাদন, একইসঙ্গে পণ্য তৈরি করে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ এবং দেশের মধ্যে বিপনন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কল কারখানা খোলা রাখার সঙ্গে দেশের আমদানি-রপ্তানি নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। ১৪ দিন কারখানা বন্ধ রাখলে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের কী হবে? বন্দরে কন্টেইনার জট বেড়ে গিয়ে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয় কিনা তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

জানতে চাইলে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলছেন, পণ্য আমদানি-রপ্তানি একটি সাইক্লিক প্রক্রিয়া। এখানে বন্দর, কাস্টমস, শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, কন্টেইনার ডিপোসহ সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান একে অপরের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কারখানা বন্ধ রাখলে সবগুলো প্রতিষ্ঠান সচলে অচলাবস্থা তৈরি হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা তৈরির শঙ্কা আছে।

তিনি বলছেন, কারখানা চালু থাকলেই কেবল কাঁচামাল বন্দর থেকে ছাড় হয়ে কারখানায় আসবে। আর কারখানা সচল থাকলেই রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ হবে। ১৪ দিন কারখানা বন্ধ থাকলে এই জটিলতার সমাধান কিভাবে হবে? আর রপ্তানি পণ্য তৈরির পর কী ১৪ দিন কারখানা গোডাউনে থাকবে? এ সময় আমরা বিদেশী ক্রেতাকে কিভাবে ম্যানেজ করবো।

সৈয়দ নজরুল ইসলামের মতে, ২০২০ সালের লকডাউনে খাদের কিনা চলে যাওয়া দেশের গার্মেন্ট শিল্পকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জিং সিদ্ধান্ত দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছেন। এবার আমরা তাঁর কাছে সামনের শাটডাউন‘-এ ভালো সমাধান চাই।

জানা গেছে, কভিড-১৯ মহামারির ঠেকাতে ঈদুল আজহা পরবর্তী ২৩ জুলাই থেকে সরকার কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সময়ে সব ধরনের শিল্প কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর থেকেই এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, টেরিটায়েলসহ সব ধরনের রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান একযোগে সরকারের সিদ্ধান্ত পুনবির্বেচনার দাবি জানিয়েছে। আজ শনিবার ঢাকায় এনিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে।

১৪ দিন কারখানা বন্ধ রাখলে চট্টগ্রাম বন্দরে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এতে কোন সন্দেহ নেই। যদি চট্টগ্রাম বন্দর এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তারা সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। তবে গত ১ জুলাই থেকে যে সর্বাত্নক লকডাউনশুরু করেছিল সরকার তখন অচলাবস্থা এড়াতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নৌ মন্ত্রণালয়ে কিছু সুপারিশ পাঠিয়েছিল। সেই সুপারিশ কার্যকর না করলে চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখা যাবে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, কঠোর লকডাউনে শিল্প কারখানা বন্ধ থাকলে বন্দরে এর নেতিবাচক প্রভাব তো পড়বেই; গত বছরের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি। শেষপর্যন্ত যদি সরকার কারখানা বন্ধ রাখে বন্দরের অচলাবস্থা এড়াতে বিকল্প হিসেবে আমরা কিছু প্রস্তাব নৌ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। গতকাল সেই প্রস্তাব সুপারিশ আকারে বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।  

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, কভিড চলাকালীন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার একক আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার ডেলিভারি হয়। লকডাউনে কারখানা বন্ধ থাকলে সেটি নেমে আসবে এক থেকে দেড় হাজার এককে। বাকি দেড় হাজার একক কন্টেইনার বন্দর ইয়ার্ডে জমতে থাকবে। এভাবে জমতে জমতে আমরা সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত বন্দর সচল রাখতে পারবো। এরপর থেকেই বন্দরে অচলাবস্থা তৈরি হবে। ২০২০ সালের প্রথম লকডাউনে যেমনটি হয়েছিল।

তিনি বলেছেন, কারখানা বন্ধ থাকলে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ হবে না। কারণ পণ্য তো তৈরি হবে না। ফলে বন্দর জেটিতে জাহাজ আসলেও সেই জাহাজ রপ্তানির বদলে খালি কন্টেইনার নিয়ে বন্দর ছাড়বে। এভাবে আমদানি-রপ্তানি কমলে খরচ কমাতে তারাও জাহাজ কমিয়ে দিতে পারে।

আর.আই/বিডি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021 bd-journalist.com
Theme Customized By newspadma.Com