1. admin@bd-journalist.com : বিডি জার্নালিস্ট : বিডি জার্নালিস্ট
  2. miraj20@gmail.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক
  3. commercial.rased@gmail.com : Staff Reporter : Staff Reporter
  4. Bangladeshkonthosor@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : অনলাইন ডেক্স
  5. newuser@mail.com : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১২ অপরাহ্ন

সরকারি চাকরির বয়সের সীমা না হয়ে হোক উন্মুক্ত

বার্তা ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১

শিক্ষার্থীদের মাঝে একটা স্বপ্ন থাকে। কারও সেটা পূরণ হয়, আবার কারও স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েও চাকরিক্ষেত্রে প্রবেশ অনেকটা নড়বড়ে হয়ে আসে। আমাদের দেশে চাকরিপ্রত্যাশীর তুলনায় চাকরির ক্ষেত্র অতি নগণ্য। তাই চাকরির প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অনেক কঠিন। আশার কথা হলো, এ দেশের তরুণ–তরুণীরা অতি তীব্র প্রতিযোগিতার মাঝেও নিজেদের স্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেন। তাঁরা কখনো নিরাশ হন না।

করোনা মহামারি প্রাদুর্ভাব শিক্ষাক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। করোনাকালে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। যাঁরা চাকরির প্রত্যাশায় দিন গুনছেন, তাঁদের জীবন একটি অনির্দিষ্ট গন্তব্য স্থানে থমকে আছে। দেড় বছর যাবৎ চাকরির তেমন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় না। যাঁরা পূর্বের বিজ্ঞপ্তিগুলোতে আবেদন করেছেন, তাঁরা পরীক্ষার আশায় আছেন। তাই দেশের অনেক সংখ্যক তরুণ-তরুণী বেকার। তারই বিবেচনায় সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের বয়স ২১ মাস ছাড় দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইতিমধ্যে একটি প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। গত বছরের ২৫ মার্চ পর্যন্ত যাঁদের বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি চাকরি নিয়োগে যত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। এ মুহূর্তে প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ বলা চলে।

তবে চাকরিপ্রত্যাশীদের পাশাপাশি চলমান শিক্ষার্থীদের কথাও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। কারণ, করোনা মহামারির দরুন চলমান শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

করোনাকালে যেটুকু সময় নষ্ট হয়েছে তা শিক্ষা জীবনের পরবর্তী সময় এমনকি সরকারি চাকরিতে আবেদনের সময়ও এর নেতিবাচক প্রভাব বজায় থাকবে। আমাদের দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কিংবা অন্য কোনো কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশন জট লেগেই থাকে। বেশির ভাগ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো এ ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি, যা সুষ্ঠু শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই একজন শিক্ষার্থীর অনার্স-মাস্টার্স শেষ করতে বয়স ২৫-২৬ পেরিয়ে যায়। তার ওপর করোনার হানা। এখানেও প্রায় দেড় বছর চলে গেল। সামনের দিনগুলোতে যে শিক্ষার্থীদের সময় কোনোভাবে নষ্ট হবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

অনেকে উচ্চশিক্ষার আগ্রহে স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশ যান। উভয় দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের জন্য বয়স ত্রিশের কোঠায় চলে যায়। ফলে আমাদের দেশে সরকারি চাকরিতে আবেদনের কোনো সুযোগ থাকে না। তাই উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ গমণকারীরা দেশে ফিরে আসতে চান না। আমরা হারাই মেধাবীদের, দেশ বঞ্চিত হয় মেধাবীদের সেবা থেকে। চাকরিতে আবেদনের সুযোগ থাকলে হয়তো তাঁদের কেউ কেউ দেশসেবায় ব্রতী হতে পারতেন। কিন্তু সেটা অপ্রত্যাশিত। আবেদনের বয়স শেষ হওয়ার ভয়ে অনেকে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যেতেও আগ্রহী নন। ফলে দেশের অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। অবনমন ঘটে শিক্ষার মানদণ্ডে।

বর্তমানে আমাদের দেশে নারীরাও চাকরিক্ষেত্রে যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন।

সংসারের শত প্রতিকূলতাকে ডিঙিয়ে চাকরিতে প্রবেশ করছেন। তবে তাঁদের অনেকেই একটা নির্দিষ্ট গ্রাউন্ডে আটকে যাচ্ছেন। বাস্তবিক পক্ষে একাডেমিক শিক্ষা শেষ হওয়ার পর বেশির ভাগ নারীর বিয়ে হয়ে যায়। তারপর সংসার, ঘর সামলানো, নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো। এতে বয়স ৩০ চলে যায়। তার মধ্যে কেউ হয়তো জয়ী হন, কেউ পেছনে হারিয়ে যান। আমরা জয়ীদের নিয়েই জয়গানে ব্রতী হই, বাহবা দিই, স্মরণ করি। পেছনে যাঁরা পড়ে থাকেন, তাঁদের সবাই কি পেছনের সারিতেই বলীয়ান ছিলেন? না, তাঁদের কেউ কেউ সামনের সারিতেও এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু বয়সের বাধার কারণে সামনে এগিয়ে যেতে পারেননি! সার্টিফিকেট কিংবা সনদের ধারালো দিকটা এখানেই ম্লান হয়ে আসে। অথচ সুযোগ ও সময়ের সুসমন্বয় পেলে তাঁরাও চাকরিক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারতেন। কিন্তু চাকরিতে প্রবেশের বয়স নির্দিষ্ট ফ্রেমে আটকে থাকার কারণে তাঁদের থেমে যেতে হয়!

তারুণ্যের শক্তি বা কর্মদক্ষতার ওপর একটি দেশের উন্নতি অনেকটা নির্ভর করে। বর্তমানে বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টে অবস্থান করছে। তাই এ সময়টুকুতে দেশের তরুণদের সৃজনশীলতা ও কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সময়সীমা ৩০ বছর হওয়ায় অনেক বেসরকারি সেক্টরও প্রবেশের সময়সীমা ৩০ বছর হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে ৩০ বছর পেরিয়ে গেলে চাকরি জোটানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই ৩০ বছরকে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনায় না নিয়ে চাকরিতে প্রবেশের সময়সীমা বাড়ালে অনেকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন।

চাহিদা ও বাস্তবতা বিবেচনায় বিভিন্ন দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বিভিন্ন রকম। কিছু কিছু উন্নত দেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সীমা বেঁধে দেওয়া হয় না। অনেক দেশে আগ্রহী ব্যক্তিরা অবসরে যাওয়ার আগের দিন সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে পারেন। তাই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ না রেখে উন্মুক্ত করা হোক। তাতে অনেকেরই আশার বাতিটুকু জ্বেলে উঠবে এবং মেধাবীদের প্রত্যাবর্তন ঘটবে।

শিক্ষার্থীদের মনোবল বাড়বে, চাকরির পুরো ক্ষেত্র দক্ষতার মিশেলে গড়ে উঠবে। অপর দিকে মহামারির সময়কে রূপান্তর কাল হিসেবে বিবেচনা করে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়স বাড়ানো সমীচীন।
তাই সুজিত সরকারের ভাষায় বলতেই পারি:
‘দেয়াল তুললেই ঘর
ভেঙে ফেললেই পৃথিবী।’

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2021 bd-journalist.com
Theme Customized By newspadma.Com